শ্রী শ্রী গীতা লোকনাথ মন্দির ও আশ্রম

ঊকিয়ারা, জাগীর, মানিকগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ। যোগাযোগ (কল / হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ) : ০১৭৩৯৫৩৯৮৬০

✯ লোকনাথ বাবা সম্পর্কে ✯

লোকনাথ ব্রহ্মচারী (জন্ম : ১৭৩০ - মৃত্যু : ১৮৯০)[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ছিলেন একজন হিন্দু ধর্মগুরু। তিনি লোকনাথ বাবা নামেও পরিচিত। বাবা লোকনাথ শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমীতে ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অাগস্ট[১] (১৮ ভাদ্র, ১১৩৭ বঙ্গাব্দ) কলকাতা থেকে কিছু দূরে ২৪ পরগণার চৌরাশি চাকলা গ্রামে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম রামনারায়ণ ঘোষাল এবং মাতা কমলাদেবী। তিনি ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের ৪র্থ পুত্র।

লোকনাথ বাবার অষ্টোত্তর শতনাম সমূহ :
  • লোকনাথ নাম রাখিল গুরু ভগবান।
  • প্রেমবতার (তুমি) ঠাকুর (তুমি) নারায়ণ।

শৈশব, সাধনা, দর্শন ও পরলোক গমন

লোকনাথের শৈশব থেকেই ঈশ্বরচিন্তা ও ব্রহ্মচর্য পালনের প্রবণতা ছিল।
দীর্ঘ কঠোর সাধনার মাধ্যমে তিনি আত্মোপলব্ধি অর্জন করেন এবং ভক্তদের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেন। মানবসেবাই ঈশ্বরসেবা—এই মন্ত্রকে তিনি জীবনের মূলমন্ত্র করেছেন।
লোকনাথ বাবা গত ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১২৯৭ বঙ্গাব্দে (৩ জুন ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ)[৪], এক রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ১১টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বারদী আশ্রমে মহাসমাধি মগ্ন হলেন। এসময় তার বয়স ছিল ১৫৯ বছর।।

লোকনাথ বাবার অলৌকিক লীলা

লীলা - ১ : কুমিল্লার নিবারণ রায় নামে একটি লোক খুনের মামলার আসামী হয়ে অভিযুক্ত হয় আদালতে।কিন্তু উকীলের শত চেষ্টা সত্ত্বেও ফাঁসির হূকুম হয় নিবারণের। এরপর কলকাতা হাইকোর্টে আসামীর পক্ষ থেকে আপীল করা হয়।বড় বড় আইনজীবী যথাসাধ্য চেষ্টা করেও আশা ছেড়ে দিলেন.… আর সময় নেই।পরের দিন হাইকোর্টের রায় হবে।নিবারণ তখন বদ্ধ কারাগারে অবধারিত মৃত্যুর প্রহর গুণতে থাকে।আসন্ন মৃত্যুর কাল ছায়া ঘনিয়ে উঠে তার চোখে মুখে।হঠাৎ তার অন্তরের মধ্যে কে যেন বলে উঠে,বাবা লোকনাথের চরণে শরণ নে.… একমাত্র তিনি ই তোকে ইচ্ছা করলে কৃপা করে বাঁচাতে পারেন এই অবধারিত মৃত্যুর হাত থেকে…"

নিবারণ বারদীর সেই মহাপূরুষের নাম শুনেছিল কিন্তু তাকে কখনো দেখেনি,তার সম্পর্কে তেমন কিছু সে জানেও না…

তবুও নিজের হৃদয়ের কথা শুনে সাথে সাথে নিবারণ কাতরভাবে ,সমস্ত দিয়ে একাগ্রচিত্তে পরম ভক্তিভরে বাবা লোকনাথের মহানাম স্মরণ করতে লাগল।নাম স্মরণ করতে করতে তন্ময় হয়ে পড়ে নিবারণ…হঠাৎ এক স্নিগ্ধ দিব্যজ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয় কারাকক্ষ। নিবারণ দেখতে পেল জটাজুটধারী জ্যোতির্ময় এক সন্ন্যাসী কারাগারের লোহার বন্ধ দরজার ভেদ কর ভেতরে প্রবেশ করলেন,নিবারণ এক অপূর্ব বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বাবার চরণে পতিত হয়ে বলল,"কে আপনি প্রভু?আমাকে কৃপা করার জন্যই কি আপনার আবির্ভাব? বাবা বললেন,"তুই আমাকে স্মরণ করে আমার শরণাপন্ন হয়েছিস,সেজন্য আমি তোর মামলার রায় লিখে দিতে এসেছি।শুনে রাখ,এতক্ষণ তুই যার নাম করছিলি,আমি ই সেই বারদীর লোকনাথ বাবা"-এই বলে মুহূর্তেই বাবা অন্তর্হিত হলেন।মনে আশা নিয়ে থাকল নিবারণ।অবশেষে ভোর হল।পরর দিন কোর্ট থেকে খবর এলো,নিবারণ রায় হাকিমের রায়ে বেকুসুর খালাস পেয়েছে !!! বাবার কৃপাতেই এমন অসম্ভব সম্ভব হতে পারে।বাবা জানতেন,নিবারণ নির্দোষ ছিল,তাই তিন ফাঁসির রায় লিখে দিলেন অথচ কোর্টের কোন মানুষই তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল না। রায়ের পর সবার মনে একবারো আসল যে নিবারণের ফাঁসির রায় হবার কথা ছিল।কিন্তু পরম শক্তিধর বাবা রাতারাতি রায় বদলে দিলেন…!

জয় জয়শ্রী বাবা লোকনাথ…



লীলা - ২ : মথুরামোহন চক্রবর্তী ঢাকার প্রসিদ্ধ শক্তি ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।বাল্যকালে তিনি এক দূরারোগ্য উৎকট ব্যাধিতে আক্রান্ত হন।পরে তিনি লোকমুখে শুনে সেই রোগ হতে মুক্তি পাবার জন্য বাবার নিকট বারদী আশ্রমে আসেন।অবশেষে বাবার কৃপায় অচিরেই তিনি রোগমুক্ত হন।সেই সাথে বাবা লোকনাথের চরণে চিরদিনের মত সমস্ত মন-প্রাণ সমর্পণ করেন।তার গুরূভক্তি ও গুরূপরায়ণতায় প্রসন্ন হয়ে বাবা লোকনাথ তাকে সমস্ত ঐহিক কামনা পূরণের বর দেন।গুরূর কৃপায় ব্যবসায় প্রচুর উন্নতি হতে থাকে মথুরামোহনের। দয়াগন্ঞ্জে " শক্তি ঔষধালয়" নামে যে প্রতিষ্ঠান ছিল সেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরেই একটি মন্দির নির্মাণ করেন তিনি।আজো সেই মন্দিরটি ঢাকা লোকনাথ মন্দির নামে খ্যাত .

মথুরামোহন বাবু তার ডায়েরীতে বাবার অনেক কথা লিখে যান।তিনি লিখেন,-বাবা নিজে বলে গেছেন,"" আমি হিমালয় থেকে নেমে নিম্নভূমিতে এসে একটি ফুলের বাগান তৈরি করে গেলাম।সময়ে এই বাগানে এক একটি ফুল ফুটবে।আর সেই ফুলের গন্ধে জগৎ আমোদিত হবে ""।

বাবার দেহত্যাগের পরে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে মথুরামোহনের জীবনে।একবার তিনি কাশীধামে যান।সেখানে হঠাৎ বাবা কে সশরীরে দেখার ইচ্ছা জাগে তার। কিন্তু তা সম্ভব নয় বলে মনের মধ্যেই চেপে রেখে দিলেন।এক সন্ধ্যাই বিশ্বনাথ মন্দিরে আরতি দেখতে গেলেন।ভীড়ের মাঝে হঠাৎ অনুভব করলেন,কে যেন তার হাত ধরে টানছেন।তাকিয়ে দেখলেন,বাবা লোকনাথ !!! তিনি বিষ্ময়ে স্থির হয়ে গেলেন কিছু সময়ের জন্য।আবেশ কাটবার পর দেখেন,বাবা তার হাত ধরে মন্দিরের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন।বাবার চরণে প্রণত হয়ে তিনি পদধূলি মাথায় নিলেন।এদিকে আরতি শেষ হয়ে গেলে বাবা আবার মথুরামোহনের হাত ধরে মন্দিরের বাইরে নিয়ে এলেন।তারপর তার বাড়ির পথা অন্ধকার গলির মাঝে পথ চলতে চলতে এক সময় তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

আজো বাবাকে কেউ একমনে ডেকে তার দর্শন পেতে চাইলে বাবা অবশ্যই আসবেন।জয় জয়শ্রী বাবা লোকনাথ।