ঊকিয়ারা, জাগীর, মানিকগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ। যোগাযোগ (কল / হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ) : ০১৭৩৯৫৩৯৮৬০
শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্যের হৃদয়ে দীর্ঘকাল ধরে একটি পবিত্র স্বপ্ন প্রজ্জ্বলিত ছিল—একটি মন্দির প্রতিষ্ঠার; যা কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপত্য নয়, বরং আর্তমানবতার সেবা ও আধ্যাত্মিক চেতনার এক অনন্য মিলনস্থল। এই স্বপ্নকে সার্থক করতে তিনি বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রম স্থাপন, বিনামূল্যে গীতা শিক্ষা প্রদান এবং সনাতন ধর্মের শাশ্বত আদর্শ প্রচারের এক চতুর্বিধ লক্ষ্য নিয়ে নিরন্তর পথ চলছেন। তাঁর এই মহতী উদ্যোগের মূলে রয়েছে এমন এক তপোবন গড়ে তোলা, যেখানে একদিকে যেমন দুস্থ ও নিরাশ্রয় মানুষের আশ্রয় মিলবে, অন্যদিকে সাধককুলও নিরিবিলি পরিবেশে নিবিষ্টচিত্তে তাঁদের সাধন-ভজন ও আধ্যাত্মিক সাধনা চালিয়ে যেতে পারবেন।
২০২২ সালে এই স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ণে শ্রী অটল চন্দ্র সরকার (বর্তমান নাম শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য), শ্রী সুধীর চন্দ্র সরকার এবং শ্রী নকুল চন্দ্র সরকার। তাঁরা পরম করুণাময়ের চরণে ৫.৫ শতাংশ ভূমি উৎসর্গ করেন। এই ভূমিদানই ছিল আগামীর বিশাল কর্মযজ্ঞের ভিত্তিপ্রস্তর।
মন্দির নির্মাণের সংকল্প যখন করা হয়, তখন শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্যের সঞ্চয়ে কোনো অর্থ ছিল না। এলাকাবাসীর প্রথম সভায় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন—
"আমার হাতে কোনো অর্থ নেই, কিন্তু হৃদয়ে অটুট বিশ্বাস আছে; ঈশ্বর চাইলে মন্দির ঠিকই হবে।" সেই অবিচল বিশ্বাস আর ভক্তহৃদয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসায় চার বছরের দীর্ঘ পরিকল্পনা মাত্র এক বছরেই সার্থকতা পায়।নির্মাণ শেষে মন্দির উদ্বোধনের দিনটি ছিল এক স্মরণীয় উৎসব। ঢাকা স্বামীবাগ থেকে ৫টি বাস এবং নয়ারহাট, ইসলামপুর, নবীনগর, ডেন্ডাবর ও ধামরাই থেকে আরও ৫টি—মোট ১০টি বাসযোগে শত শত সাধু-সন্ন্যাসী, গীতা পাঠক ও ভক্তবৃন্দ সমবেত হন। এছাড়াও দেশর হাজার হাজার ভক্তের পদচারণায় মন্দির প্রাঙ্গণ এক স্বর্গীয় রূপ ধারণ করে।
ভক্তের ভিড় ও সেবার পরিধি বাড়লে জায়গার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরমেশ্বরের কৃপায় মাত্র এক বছরের মাথায় ভক্তরা বৃদ্ধাশ্রমের জন্য আরও ৮.৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করে দেন। একইসাথে এলাকাবাসীর বহু বছরের আকাঙ্ক্ষা পূরণে শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্যের নেতৃত্বে ১৮ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা হয় ‘লোকনাথ মহাশ্মশান’ ।
এই মন্দিরের প্রতিটি ইটের পেছনে রয়েছে ত্যাগের ইতিহাস। শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভক্তদের কাছ থেকে ভিক্ষা সংগ্রহ করেছেন। তাঁর নিজের গীতা পাঠ ও যজ্ঞ থেকে অর্জিত সকল প্রণামী দক্ষিণা এবং চাকুরীর বেতনের প্রয়োজনীয় অংশ বাদে সর্বস্ব তিনি এই মন্দিরের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছেন।
বর্তমানে এখানে শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পৌরোহিত ব্রাহ্মণের মাধ্যমে নিত্য পূজা-অর্চনা ও আরাধনা চলছে। উকিয়ারা বাসী তাদের কায়িক শ্রম দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানকে আগলে রেখেছেন। বর্তমানে স্বল্প পরিসরে বৃদ্ধাশ্রম ও মহাশ্মশান চালু থাকলেও, ভবিষ্যতে একে আরও বৃহৎ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বছরে প্রায় ১৫টি ধর্মীয় উৎসব এখানে অত্যন্ত ভক্তিভরে উদযাপিত হয়।
ভক্তদের দান এবং আশীর্বাদই এই আশ্রমের মূল শক্তি। আর্তমানবতার সেবায় এই পবিত্র প্রাঙ্গণ যেন আগামী দিনে আরও প্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে—এটাই আমাদের একান্ত প্রার্থনা।
বিশ্বের সকল মানুষের কল্যাণের মহান ব্রত ধারণ করে, স্থানীয় ও দেশজুড়ে থাকা ভক্তদের আন্তরিক ইচ্ছায় ২০২২ সালে মানিকগঞ্জ জেলার উকিয়ারায় "শ্রীশ্রী গীতা লোকনাথ মন্দির ও আশ্রম" প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই পবিত্র স্থান শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সহ বিভিন্ন শাস্ত্র ও ধর্মগ্রন্থের অমৃত বাণী, মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম মহিমা এবং মহাযোগী বাবা লোকনাথের অলৌকিক জীবন ও দর্শনের প্রচারে উৎসর্গীকৃত। ভক্তবৃন্দের উদার আর্থিক অনুদান ও সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতায় এই আশ্রম গড়ে উঠেছে, যেখানে ভিক্ষাই এর মূল ভিত্তি। নাটমন্দির, বৃদ্ধাশ্রম, অনাথ আশ্রম ও সাধু-ভক্তিনিবাস নির্মাণের জন্য আনুমানিক ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্রীশ্রী গীতা লোকনাথ মন্দির ও আশ্রম প্রাঙ্গণ গীতা শিক্ষার্থীদের সুললিত ও প্রাণবন্ত গীতা পাঠে সর্বদা মুখরিত থাকবে। বৈদিক মন্ত্রের পবিত্র ও শক্তিশালী অনুরণন প্রতিটি ধ্বনিতে প্রতিধ্বনিত হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে গীতা মায়ের জ্ঞানালোক বিতরণের মহান সংকল্প নিয়েই এই মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই আশ্রমের মূল মন্ত্র – "গীতার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো"। সনাতন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আদর্শে জীবন গঠন করতে পারলে সমাজে বিদ্যমান সকল প্রকার ভেদাভেদ ও হানাহানি দূরীভূত হবে। গীতা শিক্ষালয়ে মায়ের স্নেহময় কোলে বসে শিশুরা পবিত্র গীতার অমৃতময় বাণী শ্রবণ করে বড় হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে শুদ্ধ উচ্চারণে ও সুরে সংস্কৃত ভাষায় গীতা পাঠে দক্ষতা অর্জন করবে।
ভক্তদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ইতিপূর্বে সারাদেশের গীতা প্রেমিক এবং গীতা মায়ের সন্তানদের নিয়ে “বাসুদেব গীতা প্রচার ফাউন্ডেশন” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো সর্বমোট ৭০০০ (সাত হাজার) কপি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন গীতা শিক্ষালয়, মঠ-মন্দির ও আশ্রমে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গীতা বিতরণের কার্যক্রম বর্তমানেও চলমান রয়েছে।
১. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অমূল্য জ্ঞান বিনামূল্যে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া। ২. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা প্রকাশ ও বিনামূল্যে বিতরণ করা। ৩. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার গভীর আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। ৪. সনাতন ধর্মের শাশ্বত জ্ঞানকে সহজলভ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ৫. দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈদিক বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা। ৬. ভক্তদের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠে উৎসাহিত ও আগ্রহী করে তোলা। ৭. অসহায় শিশুদের জন্য অনাথ আশ্রম ও বয়স্কদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করা। ৮. ভক্ত ও সাধুদের জন্য ভক্তিনিবাস ও সাধুনিবাস নির্মাণ করা। ৯. সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপন করা। ১০. সনাতনীদের সুপ্ত ব্রহ্মজ্ঞানকে পুনরায় জাগরিত করা। ১১. সনাতন ধর্মের মূল ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করা। ১২. সমাজের প্রতিটি স্তরে গীতার জ্ঞান বিতরণ করা। ১৩. প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি গীতা শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করা। ১৪. গীতার আলোকে জ্ঞান, সাহস ও বীরত্বের সমন্বয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
হিংসা, বিদ্বেষ ও বৈষম্যমুক্ত একটি সুন্দর পৃথিবী গঠনের লক্ষ্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার জ্ঞানে আলোকিত মানবপ্রেমী মানুষ তৈরির এই মহৎ উদ্যোগে সমাজের সহানুভূতিশীল, মানবদরদী ও সৃজনশীল ব্যক্তিবর্গের মূল্যবান পরামর্শ, উদ্ভাবনী ধারণা এবং আর্থিক সহযোগিতা একান্ত কাম্য। আপনাদের প্রসারিত হস্ত এই কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
এই মন্দিরের প্রতিটি ইটের পেছনে রয়েছে ত্যাগের ইতিহাস। শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভক্তদের কাছ থেকে ভিক্ষা সংগ্রহ করেছেন। তাঁর নিজের গীতা পাঠ ও যজ্ঞ থেকে অর্জিত সকল প্রণামী দক্ষিণা এবং চাকুরীর বেতনের প্রয়োজনীয় অংশ বাদে সর্বস্ব তিনি এই মন্দিরের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছেন।
অটল চন্দ্র সরকার (শ্রীমৎ ধ্রুব চৈতন্য), অধ্যক্ষ - ০১৭৩৯৫৩৯৮৬০ (বিকাশ নম্বর) ব্যাংক হিসাবের নাম: Sri Sri Gita Lokenath Mondir & Ashram হিসাব নম্বর: 1231101157830 ব্যাংকের নাম: Pubali Bank Limited, Manikganj Branch, Manikganj.